বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের দাম চলতি বছর সাম্প্রতিক বাজারদরের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে। এ দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ঘিরে বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা। তবে একই সময় চীন থেকে রফতানি বৃদ্ধি পণ্যটির দামে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
গবেষণা সংস্থা বিএমআই (ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের গড় দাম টনপ্রতি ৬৩০ ডলারেই বজায় থাকতে পারে, যা আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় অপরিবর্তিত। তবে বছরের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সুরক্ষা নীতিমালার কারণে দাম কিছুটা বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি চীনের চাহিদা হ্রাসের নিম্নমুখী চাপকে কিছুটা ঠেকাতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরু থেকে বিশ্বের শীর্ষ বাজারগুলোয় ইস্পাতের দামে ক্রমাগত নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। মে মাসের শেষে ধাতবপণ্যটির গড় দাম ছিল টনপ্রতি ৫৯৭ ডলার, যা ২৬ ফেব্রুয়ারির ৫৯২ ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি।
গবেষণা সংস্থাটির বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে বাণিজ্য সুরক্ষাবাদের তীব্রতা, বিশেষ করে ট্রাম্পের নীতিগত পরিবর্তন ও চীনের অর্থনৈতিক গতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ইস্পাতের দাম নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।
তারা জানান, অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিম্নমুখী থাকায় তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দেশে রফতানি বাড়িয়েছে চীন, যা বৈশ্বিক গড় দামে চাপ তৈরি করেছে। তবে ২০২৫ সালে বিভিন্ন দেশে সুরক্ষাবাদী নীতির প্রসার ইস্পাতের দাম বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া চীনের রিয়েল এস্টেট খাত পুনরুদ্ধারের গতি যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয় অথবা ২০২৫ সালে চীন বড় আকারে উৎপাদন সীমিত করার মতো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে দাম আরো বাড়তে পারে।
তবে এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ‘কমোডিটিস আউটলুক’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের দুর্বল রিয়েল এস্টেট খাত ও প্রধান অর্থনীতিগুলোর দুর্বল শিল্প কার্যক্রমের কারণে আকরিক লোহার দাম কম থাকবে। এতে ইস্পাত শিল্প বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডাস্ট্রি, সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্সেসের অধীন অর্থনৈতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগ অফিস অব দ্য চিফ ইকোনমিস্ট (এওসিই) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইস্পাত উৎপাদন স্থিতিশীল থাকবে। পাঁচ বছরের মধ্যে এর প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হবে।
সংস্থাটি আরো জানায়, চাহিদা স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও ইস্পাত উৎপাদন বিশ্বজুড়ে বাড়ছে, যার কারণে দাম কমছে। চীন বাদে বিশ্বজুড়ে উৎপাদন খাত দুর্বল। ফলে ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা চাপের মুখে রয়েছে।
এওসিই বলেছে, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইস্পাত উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বজায় রাখবে। এ সময় চীনের চাহিদা ধীরে কমতে পারে। এর পেছনে ভূমিকা রাখবে জনসংখ্যা ও কাঠামোগত পরিবর্তন।
সংস্থাটির মতে, চীনের বার্ষিক ইস্পাত উৎপাদন ২০২৪ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫০ লাখ টন কমে যেতে পারে।